শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রচ্ছদUncategorizedতেরোটি ভোট যোগ হলে বদলে যাবে ইতিহাস

তেরোটি ভোট যোগ হলে বদলে যাবে ইতিহাস

তেরো। মাত্র তেরোটি ভোট। এই সংখ্যাটি আজ বাংলাদেশি কমিউনিটির বুকে একটি তীরের মতো বিঁধে আছে। জয়ের এত কাছে এসে, এত স্বপ্ন বুকে নিয়ে, শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরে আসতে হলো। স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট–৩০-এর বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী শামসুল হকের এই পরাজয় শুধু একজন মানুষের হার নয় — এ যেন গোটা কমিউনিটির স্বপ্নের অকালমৃত্যু।

২৩ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে শামসুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯০টি ভোট। আর বিজয়ী প্রার্থী প্যাট্রিক মার্টিনিজ পেয়েছেন ২ হাজার ৭০৩টি ভোট। মাত্র ১৩ ভোটের এই নিষ্ঠুর ব্যবধান আজ কমিউনিটিকে অশ্রুসিক্ত করেছে। ভাবতে কষ্ট লাগে — যদি সেদিন আরও মাত্র তেরোজন মানুষ ঘরের দরজা খুলে ভোটকেন্দ্রে পা রাখতেন, তাহলে আজ ইতিহাসটা অন্যভাবে লেখা হতো।

এবারের নির্বাচনে পাঁচজন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও শামসুল হককে ঘিরেই ছিল সবচেয়ে বড় আশার আলো। সাবেক এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সৎ ভাবমূর্তি এবং সব কমিউনিটির কাছে সমান গ্রহণযোগ্যতা — সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এই মুহূর্তের সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল। পরিবারগুলো অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পরাজয়ের পেছনে রয়েছে কমিউনিটির দীর্ঘদিনের কিছু দুর্বলতা। ভোটার রেজিস্ট্রেশনে অনীহা, ভোট প্রদানে উদাসীনতা এবং প্রার্থীদের নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার বদলে নেতিবাচক সমালোচনায় মেতে থাকার প্রবণতা — এই তিনটি সংকট আজ কমিউনিটির সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি সেদিন আরও মাত্র তেরোজন মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতেন, তাহলে হয়তো ইতিহাসটা ভিন্নভাবে লেখা হতো।

১৩ ভোট পিছিয়ে থাকা শামসুল হকের আসনে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে দুই সপ্তাহ পর । নির্বাচন শেষে তিনি তাঁর সকল সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তেরোটি ভোট। এই সংখ্যাটি ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয় — এটি একটি সতর্কবার্তা। আগামী নির্বাচনে যদি এই শিক্ষা কাজে না লাগে, তাহলে আক্ষেপের এই বৃত্ত থেকে বের হওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

 

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

সর্বশেষ