
“আমরা আমেরিকার অংশ, আমরা নিউইয়র্ক সিটির অংশ, নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ অফিসার হওয়া মানেই বিশ্ব পরিচিতি পাওয়া। নিউইয়র্ক পুলিশ বিশ্বের সেরা পুলিশ। এটা আমাদের গর্বের বিষয়।আমরা নিউইয়র্ক তথা আমেরিকার জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো পিছপা হইনি। সোমবার ম্যানহাটনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত দিদারুল ইসলামই তার জ্বলন্ত প্রমাণ”। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সার্জেন্ট এরশাদুর সিদ্দিক নিউইয়র্ক টাইমসের সাথে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন।
নিউইয়র্ক টাইমস সহ বিভিন্ন সূত্র জানায়, নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে (NYPD) প্রায় ৫৫ হাজার সদস্য রয়েছে। তার মধ্য প্রায় ৩৬ হাজার ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা এবং ১৯ হাজার বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছে। এই বিভাগে বাংলাদেশি আমেরিকান ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্যের মধ্যে প্রায় এক হাজার। তাদের মধ্যে একজন ইন্সপেক্টর এবং চারজন ক্যাপ্টেন। সেই সাথে দেড় হাজার বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন যারা পুলিশ বিভাগের জন্য কাজ করেন।
এক সময় নিউইয়র্ক পুলিশে শ্বেতাঙ্গদের সংখ্যা বেশি ছিল। আইরিশ আমেরিকানদের বড় অংশ ছিল এই বিভাগে। মার্কিন আদমশুমারি এবং পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে প্রায় ১২ শতাংশ পোশাকধারী অফিসার এশীয়। পোশাকধারী অফিসারদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ হিস্পানিক এবং ১৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। বেসামরিক পুলিশ বিভাগের কর্মচারীদের মধ্যে ১৭ শতাংশ এশিয়ান এবং ৪৫ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ।
উল্লেখ, বেশ কয়েক দশক ধরে নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি অভিবাসীদের আসা শুরু হয়েছিল। তারা নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গড়ে তুলেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ ধর্মীয় উপাসনা। একসময় বাংলাদেশি অভিবাসীদের নির্মাণ কাজই প্রধান পেশা ছিল । পাশাপাশি অনেকেই ফুড ডেলিভারি ও উবার ড্রাইভিংয়ের মতো অন্যান্য চাকরিতে যোগ দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অনেকেই পুলিশ বিভাগে যোগ দিচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই ট্রাফিক বিভাগে। ট্রাফিক বিভাগে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। পাশাপাশি কিছু তরুণ-তরুনী বাংলাদেশী আমেরিকান রাজনীতিতেও প্রবেশ করেছে।
বাংলাদেশি আমেরিকানরা এখানে স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে অবদান রাখলেও নিহত দিদারুল ইসলামের বীরত্ব ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে কখনো প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টে থেকে শুরু করে মূল ধারার মিডিয়ার প্রধান হেডলাইন হয়ে উঠনি।
সোমবার ম্যানহাটনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশি আমেরিকানরা গভীর শোকের প্রকাশের পাশাপাশি তার বীরত্বের জন্য গর্ব অনুভব করছেন।
দিদারুলের মৃত্যুটি ছিল সম্মানজনক প্রস্থান। নিউইয়র্ক তথা আমেরিকার মানুষের নিরাপত্তার জন্য তিনি নিজের জীবন বিলিয়ে দিলেন। তাই ‘আমেরিকান বীর’ দিদারুল ইসলামকে সম্মানের সাথে বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলেন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য। শহরের ৭৭টি প্রিসিঙ্কটের মধ্যে কমপক্ষে ৫৪টি এলাকার কর্মকর্তা, যারা তাদের আনুষ্ঠানিক পোশাকের সাদা গ্লাভস পরে বৃষ্টির মধ্যে কফিনটি অতিক্রম করার সময় তাকে অভিবাদন জানান। আকাশপথেও হেলিকপ্টার থেকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। এই সময় সেখান ছিলেন মার্কিন বিমান বাহিনীর ইউনিফর্মধারী সদস্য, গভর্নর এবং মেয়র – এবং নিহতের দুই ছোট ছেলে এবং আট মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ও বাবা মা সহ হাজার হাজার বাংলাদেশী কমিউনিটির নারী ও পুরুষেরা।
দিদারুলের জানাজা সহ শেষকৃত্যের বীরোচিত সম্মান জানানোর ঘটনায় আমেরিকান পুলিশসহ বিভিন্ন মূলধারার সরকারি কার্যক্রমে বাংলাদেশি আমেরিকানদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সবাই আশা করছে।#####

