
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে দলগতভাবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নীরব সমর্থনে এগিয়ে থাকলেও সাংগঠনিক ভাবে ঢাবিতে ইসলামী ছাত্রশিবির খুবই সুসংগঠিত। তাছাড়া বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ, প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ও ছাত্র ইউনিয়নসহ বাম সংগঠন গুলোর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এই নির্বাচনে। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুল আলোচিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এদিকে তরুণ প্রজন্মের জেনারেশন জি, বিপুলসংখ্যক ছাত্রী সহ সংখ্যালঘু ভোটের উপর নির্ভর করছে ভোটের ফলাফল। মূলত গত ১৭ বছর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের কোনো ক্ষেত্র না থাকায় এবং দীর্ঘদিনের ভয়ের রাজনীতি হয়ত এখনো চলমান থাকায় নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আগাম কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ছাত্র সংসদের বিভিন্ন নির্বাচনে, যেসব কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রশিবির সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ছিল, তখন সেখানাকার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর সমর্থ্য না পাওয়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির নির্বাচনে কাঙ্খিত জয় লাভ করতে ব্যর্থ হয়।
এক সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির নিজেদের দুর্গ হিসাবে গড়ে তুলেও নির্বাচনে তারা জয়ী হতে পারেনি। কারণ সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে ছাত্রী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে ছাত্রশিবির বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
এবারও কি সেই অবস্থার পুনঃবৃত্তি ঘটবে? না- নতুন কিছু ঘটবে? তার জন্য ৯ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষায় থাকতে হবে।
উল্লেখ্য এবারের ডাকসু নির্বাচনের ২৮টি পদে মোট ৬৫৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে তবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১০৬ জন। নির্বাচনে মোট ৯টি প্যানেলে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন অংশ নিচ্ছে। এসব জোটে অন্তত ১২ টি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন রয়েছে, এমনকি কিছু প্রভাশলী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৮৭৩ জন ছাত্র এবং ১৮ হাজার ৯০২ জন ছাত্রী।
এবারের ডাকসুতে ভোট দেয়ার থাকছে পাঁচ পৃষ্ঠার ব্যালট পেপার। এ অবস্থায় একজন ভোটারকে সময় নিয়ে ভোট দিতে হবে। একটু ভুলের জন্য ভোট-ই নষ্ট হতে পারে। তাছাড়া ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে এবার প্রার্থী আগের তুলনায় বেশি। তাই ভোট নষ্ট হয়ে যাওয়ার সংখ্যাও বড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছে।####

