
আগামী ২৪ শে জুন মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে বাংলাদেশি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াই নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে শাহানা হানিফের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৮ই জুন নিউইয়র্ক সহ আমেরিকার জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল, টাইম টিভির টাইম এক্সক্লুসিভের এক আলোচনা সভায় আলোচকরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আমেরিকার বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু তাহেরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন এপিজে অ্যাকশনের স্পোক ম্যান মোহাম্মাদ শাহজাহান, ড্রামের কাজী ফৌজিয়া, বাগের শাহানা মাসুম, মূলধারার নারী নেত্রী মেরি জুবাইদা এবং সিটি কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শাহানা হানিফ।
বক্তারা বললেন, গত ২০২১ এর সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে ব্রুকলীনরে ডিস্ট্রিক্ট ৩৯-এ বাংলাদেশি কমিউনিটির ভোট পড়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। তখন নতুন প্রার্থী শাহানা হানিফ অন্যান্য বড় কমিউনিটির ভোটে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন। কিন্তু এবার প্যালেস্টাইন আন্দোলনে শাহানা হানিফ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্যালেস্টাইনদের পক্ষে সিটি কাউন্সিলে রেজুলেশন নিয়ে যাওয়া এবং উবার, লিফট ও ফুড ডেলিভারিম্যানদের অধিকার রক্ষায় জোরালো ভূমিকার কারণে মহল বিশেষ সহ শক্তিশালী অর্থনৈতিক গ্রুপ সরাসরি শাহানা হানিফের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই এই কঠিন পরিস্থিতিতে শাহানা হানিফের বিজয়ের নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশী কমিউনিটির ভোটারদের ব্যাপক হারে ভোটে অংশ নিতে হবে।
উল্লেখ্য শাহানা হানিফ ২০২১ সালে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। চার বছর পর আবার তিনি প্রার্থী হয়েছেন । পার্ক স্লোপ, উইন্ডসোর টেরেস, বোয়েরাম হিল ও ক্যারল গার্ডেনসসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গঠিত সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট ৩৯-এ লড়ছেন শাহানা হানিফ। ২৪ জুন মঙ্গলবার নিউইয়র্ক সিটি প্রাইমারি নির্বাচন। এই নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হলে ৪ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন তিনি।

এদিকে ২০২১ সালের নির্বাচনে শাহানা হানিফ তার প্রতিদ্বন্দ্বি ব্রান্ডন ওয়েস্টের সাথে লড়াই করে ৩২ শতাংশ ভাগ ভোট পান। ওয়েস্ট পান ২৩ শতাংশ ভোট। নির্বাচিত হয়ে শাহানা হানিফ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনাময় একশ নারীর তালিকায় স্থান করে নেন । ব্রুকলিন কলেজ গ্রাজুয়েট শাহানা হানিফ ব্রুকলিনের কেনসিংটন এলাকায় বেড়ে উঠেন । রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়া শাহানা ছোটকাল থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
শাহানা হানিফ শুধু বাংলাদেশী কিংবা আমাদের চামড়া অথবা আমাদের ধর্মে নয়, শাহানা হানিফকে পলিটিক্যাল ব্যাক্তত্ব উল্লেখ্য করে ড্রামের কাজী ফৌজিয়া বলেন, আমরা ডেলিভারি ওয়ার্কারদের মিনিমাম ওয়েজ পাশ করানোর প্রোটেস্ট করতে গেলে শাহানা সেখানে থাকে। ইমিগ্রেশন ইস্যুতে প্রোটেস্ট করলে শাহানা সেখানে অংশ নেয়। প্যালেস্টাইনদের নিয়ে প্রটেস্ট করলে শাহানাকে কাছে পাই। এমন কোন প্রগ্রেসিভ মুভমেন্ট নাই যেখানে আমরা শাহানাকে পাই না। সেজন্য শাহানা হলো পলিটিক্যাল। তিনি সিটি কাউন্সিলে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
শাহানা হানিফ প্যালেস্টাইন সাপোর্ট করার জন্য শুধুমাত্র মিছিল করিনি, সে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্যালেস্টাইন রেজুলেশন নিয়ে সিটি কাউন্সিলে গিয়েছে এবং রেজুলেশন পাস করানোর পর্যায়ে পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন। তাই ঐই বিশেষ মহলগুলো সক্রিয়ভাবে শাহানা হানিফের বিরোধিতা করছে বলে কাজী ফৌজিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কাজী ফৌজিয়া আরো জানান, শাহানা হানিফ যদি সিটি কাউন্সিলর না হতো তাহলে চার্চ ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউকে নতুন নামে কেউ চিনতে? শাহানা এই এলাকাকে ‘লিটল বাংলাদেশ’ নাম করণের মাধ্যমে বাংলাদেশী কমিউনিটিকে সম্মানিত করেছে।
কাজী ফৌজিয়া উদ্বিগ্নতার সাথে বলেন, আমরা একটা যুদ্ধের ধার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। আইসিই নিউইয়র্ক শহরে ঢুকে গেছে। তাই শাহানারা আণিত বিলের ধারাবাহিকরা রাখতে হলে তাকে সিটি কাউন্সিলর নির্বাচিত করার কোন বিকল্প নেই। ন্যায় সংগত ক্যাব ড্রাইভারদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ‘উবার’ শাহানার বিরোধীপক্ষকে এক লাখ চল্লিশ হাজার ডলার দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে মূলধারার নারী নেত্রী মেরি জোবাইদা, শাহানা হানিফের মধ্যে জন আকাঙ্ক্ষা উত্তরণের বলিষ্ঠতা দেখে বলেন, শাহানা যে কেউ হতে পারতো, শাহানা লাঠিন আমেরিকান হতে পারতো, একজন সাদা চামড়ার কেউ হতে পারতো। আমরা একজন নেতা চেয়েছি। আমরা যখন এই নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেটের জন্য ভালো নেতৃত্ব খুঁজি তখন আমরা বাংলাদেশে খুঁজি না, আমরা মুসলমান খুঁজি না, আমরা শুধু একজন যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজি। যে প্রতিটি মানুষকে এক করতে পারে। সবার হয়ে কাজ করে। আমরা অভিভাবক খুঁজি, যার অভিভাবকত্বে সবাইকে নিয়ে সুবিধা-অসুবিধার মধ্যে এগিয়ে যাবে। সেই সব গুণাবলী শাহানা হানিফের মধ্যে আছে, যেটা সে গত চার বছর দেখিয়েছে। সে সবসময় দৃঢ় ভাবে বঞ্চিতদের পক্ষে ছিল। নেতৃত্ব চলে যাবার আশঙ্কা থাকলেও সে কখনো অন্যায়ের সাথে আফসোস করেনি।
এদিকে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মতামত জানতে চাইলে সিটি কাউন্সিলর প্রার্থী শাহানা হানিফ বলেন, এই নির্বাচন নিউইয়র্ক সিটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির তিনটি সমস্যার মধ্যে একটি হল নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসন সংকট চলছে। মা-বাবারা সন্তানদের এফোর্ট করতে না পেরে নিউইয়র্ক সিটি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয়টি হল, ট্রাম্প প্রশাসন আইসিই’র মাধ্যমে নিউইয়র্কে ডেপোর্টেশন করলেও বর্তমান মেয়র নিরব ভূমিকা পালন করছে। কোন প্রতিবাদ পর্যন্ত করছে না। আর তৃতীয়টি হল, সিটি কাউন্সিল হিসেবে আমার মূল কাজ হচ্ছে, আমার এলাকার লোকজনকে সার্ভিস দেয়া এবং তাদের কোয়ালিটি অফ লাইফের বিভিন্ন ইস্যুৎ সলভ করা। অন্যান্যদের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আমরা সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি। এবং তাদের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছি।
অন্যদিকে কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রা ওকাসিও, সিটি মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি ও ব্র্যাড ল্যান্ডার শাহানা হানিফকে সর্মথন দিয়েছে। বেশ কিছু রিয়েলটর তাকে এনডোর্স করেছেন। শাহানা অ্যাফর্ডেবল হাউজিং-এর পক্ষে। উবার, লিফট ও ফুড ডেলিভারিম্যানদের অধিকার রক্ষায় তিনি গত ৪টি বছর কাজ করেছেন। বাগ এবং ড্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে এনডোর্স করেছে শাহানা হানিফকে। উল্লেখ্য শাহানা হানিফের পিতা মোহাম্মদ হানিফ চট্টগ্রাম সসিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন।#####

