
আজ ২২ শে জুন রোববার ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড তথা ‘লিটল বাংলাদেশ’-এ ১৫ তম ঐতিহ্যবাহী পথমেলা শুরু হয়েছে। চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড বাংলাদেশী বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (সিএমবিবিএ)-এর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশী আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি সহযোগিতায় মেলাটি আয়োজন করা হয়েছে।
গত ৯ জুন জ্যাকসন হাইটস এবং ১৬ জুন চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে দুই দফা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, এবারের মেলা পূর্বের সকল আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতির ধারাকে প্রবাসে ধরে রাখতে মেলায় বসানো হয়েছে শতাধিক স্টল। যেখানে পরিবেশিত হবে বাঙালি খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প ও বিভিন্ন পণ্য। মেলায় থাকবে র্যাফেল ড্র, যার প্রথম পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে একটি নতুন গাড়ি। পাঁচ ডলারের টিকিটের বিনিময়ে অংশগ্রহণকারীরা আরও প্রায় বিশটি মূল্যবান পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন।
প্রবাসী প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে এবং তাদের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবারও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। সেইসঙ্গে যারা কমিউনিটির উন্নয়নে আজীবন কাজ করে গেছেন, এমন একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া হবে ‘আজীবন সম্মাননা’। এছাড়াও এমন নারীদের খুঁজে বের করে সম্মাননা জানানো হবে, যারা প্রতিকূল পরিবেশেও সন্তানদের শিক্ষিত করতে ভূমিকা রেখেছেন, পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছেন।আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পথমেলায় থাকবে পর্যাপ্ত ভ্রাম্যমাণ টয়লেট।
মেলা কমিটির আহাবায়ক মামুনুর রশিদ জানান, প্রবাসে বাংলাদেশীরা সংগঠিত। লিটল বাংলাদেশ তথা চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকাটিকে মনে হয় এক টুকরা বাংলাদেশ। নিউইয়র্ক সিটির সর্বপ্রথম যে মহিলা ও মুসলিম কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত শাহানা হানিফ। তারই প্রচেষ্টায় এই চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকাটি লিটল বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আমরা এই লিটল বাংলাদেশকে সারা আমেরিকার ছড়িয়ে দিতে চাই।
সংবাদ সম্মেলন গুলোতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাঠওয়ারীর, সংগঠনের সেক্রেটারি মইনুল আলম বাপ্পী, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্ঠা আব্দুর রব চৌধুরী, মেম্বার সেক্রেটারি আনোয়ারুল আজিম, বাংলাদেশী আমেরিকান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট কাজী আজম, সেক্রেটারি এস এম ফেরদৌস এবং বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার আহসান হাবিব, লুৎফুর রহমান, মামুনুল হক, লিয়াকত আলী, জয়নাল আবেদিন, নিযাম উদ্দীন, আনোয়ার হোসেন লিটন,সামসুদ্দীন আজাদ, নাজমা সহ অনেকেই।
মেলার উপস্থাপনা হবে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় উপস্থাপনা করা হবে যাতে নতুন প্রজন্মও তাদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। পুরো মেলা জুড়ে সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবেন দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা। এছাড়া সিটি ও স্টেট পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং প্রবাসী কমিউনিটির গুণীজনদের শুভেচ্ছা বক্তব্যও থাকবে। বহুজাতিক সমাজে যেসব বাংলাদেশি মেধা ও কর্মগুণে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তাদেরও এ মেলায় সম্মানিত করা হবে।###

