
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে আরোপিত একটি বিতর্কিত নীতিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক পল ফ্রিডম্যান। গত ২০ মার্চ দেওয়া এই রায়ে তিনি বলেন, পেন্টাগনের নীতিটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী (বাকস্বাধীনতা) এবং পঞ্চম সংশোধনী (যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার) উভয়ই লঙ্ঘন করেছে। (সুত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস)
রায়ে বিচারক ফ্রিডম্যান উল্লেখ করেন, নীতিটি মূলত সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের অনুকূল সংবাদমাধ্যমকে প্রাধান্য দেওয়ার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছিল, যা সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টিভঙ্গিভিত্তিক বৈষম্যের শামিল। তিনি তার রায়ে লেখেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দমন কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নয়, বরং তা স্বৈরতন্ত্রের লক্ষণ।
মামলাটি দায়ের করেছিল প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, গত ডিসেম্বরে। রায়ের পর আদালত পেন্টাগনকে নির্দেশ দেন টাইমসের সাতজন সাংবাদিকের প্রেস ক্রেডেনশিয়াল অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে।
তবে এই রায়ের পরও বিরোধ থামেনি। পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে আপিলের ঘোষণা দেয় এবং একইসঙ্গে একটি নতুন অন্তর্বর্তীকালীন নীতি কার্যকর করে, যাতে সাংবাদিকদের ভবনের অভ্যন্তরে চলাফেরার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে একজন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধান বা “এসকর্ট” নেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়। বিচারক ফ্রিডম্যান ৯ এপ্রিল আরেকটি রায়ে এই নতুন নীতিকেও তার পূর্বের আদেশের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
এরপর গত ২৭ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসির আপিল আদালত (D.C. সার্কিট) ২-১ ভোটে পেন্টাগনের পক্ষে রায় দিয়ে এসকর্ট নিয়মটি সাময়িকভাবে বহাল রাখে, যতদিন না মূল আপিল মামলার নিষ্পত্তি হয়। এই রায়ের বিপক্ষে মত দেন বিচারক মিশেল চাইল্ডস, যিনি তার ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, এসকর্ট নিয়মের কারণে সাংবাদিকদের পক্ষে স্বাধীনভাবে সূত্র যাচাই বা তথ্য সংগ্রহ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে নিউইয়র্ক টাইমস গত ১৮ মে পেন্টাগনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা দায়ের করে, এবার সরাসরি এসকর্ট নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে। গত ১২ জুন বিচারক ফ্রিডম্যান এই মামলার শুনানি গ্রহণ করেন, যেখানে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রায় দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি হলো — এসকর্ট নিয়ম এখনও কার্যকর রয়েছে, এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে এই দীর্ঘ আইনি লড়াই, যা মার্কিন সাংবাদিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

