স্মার্টফোন নিষিদ্ধকরণের জাতীয় আন্দোলনে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সাথে নিউ ইয়র্ক পাবলিক স্কুল যোগ দিয়েছে। শিশুদের অন্ধকার জগত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে। নিউ ইয়র্ক গভর্নরের সাড়ে ১৩ মিলিয়ন ডলার তহবিল গঠন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, নিউ ইয়র্ক সিটির ৭০০ টিরও বেশি স্কুল প্রধানরা শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফোন ক্লাস, মধ্যাহ্নভোজ এবং স্কুল দিনের অন্যান্য অংশে অননুমোদিত ব্যবহার রোধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এক জরিপ দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ মার্কিন কিশোর-কিশোরী স্মার্টফোনের মালিক। আট বছর বয়সী এক তৃতীয়াংশ শিশুর স্মার্টফোন আছে।
গত দশকে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং আত্ম-ক্ষতির ক্রমবর্ধমান হার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তিতে সংকট, বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে বুলিং বা হয়রানির সম্মুখীন হওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিরূপ অভিজ্ঞতা প্রকাশ হওয়ার পর মোবাইলের ব্যবহার নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করতে শুরু করা হয়।
কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের উপর এই নিষেধাজ্ঞা স্মার্টওয়াচের মতো অন্যান্য “ইন্টারনেট-সক্ষম ব্যক্তিগত ডিভাইস”-কেও সীমিত করবে। ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নেই এমন মৌলিক মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, লুইসিয়ানা এবং ভার্জিনিয়া সহ প্রায় এক ডজন রাজ্যের সাথে নিউ ইয়র্কও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন রাজ্যে ফোন ব্যবহার সীমিত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।যদিও সবার নীতিমালার মধ্য ভিন্নতা রয়েছে। কিছু রাজ্য কেবল ক্লাস চলাকালীন ডিভাইস নিষিদ্ধ করেছে। অন্য অঙ্গরাজ্য গুলো তাদের নিজস্ব বিধিনিষেধ তৈরি করছে।
স্মার্টফোন অনেক শিশুকে অন্ধকার জায়গায় টেনে নিয়ে গেছে। স্মার্টফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উত্থান শিক্ষকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝে ক্যাফেটেরিয়ায় টিকটক ভিডিও তৈরি করে, বাথরুমের স্টলে ইনস্টাগ্রাম ব্রাউজ করেছে।
বিভিন্ন রাজ্যের অনেক স্কুল ইতিমধ্যেই কোনও না কোনওভাবে স্মার্টফোন ব্যবহার সীমিত করেছে। নিউ ইয়র্ক সিটির কিছু মিডল স্কুলে শিশুদের ফোন শ্রেণীকক্ষের পাশে কিউবি রাখতে বলা হয়েছে। উচ্চ বিদ্যালয়গুলি মাঝে মাঝে ফোনের জন্য তালাবদ্ধ কাপড়ের থলি বিতরণ করে, যা শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যাকপ্যাকে রাখে।
গত মাসে করা একটি জরিপ অনুসারে,নিউ ইয়র্ক সিটির স্কুলে স্মার্টফোন নিষিদ্ধকরণ ব্যাপকভাবে জনমত গড়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান এবং স্বতন্ত্র সহ সংখ্যাগরিষ্ঠ ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোটার নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছে।
নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকল স্কুলে স্মার্ট ফোন এবং অন্যান্য ইন্টারনেট সক্ষম ডিভাইস ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে স্কুলগুলিকে সহায়তা করার জন্য সাড়ে ১৩ মিলিয়ন ডলার তহবিলও সরবরাহের কথা জানান।

