সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিককৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত রোবোটিক্স চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে চীনের গোপন অস্ত্র।।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত রোবোটিক্স চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে চীনের গোপন অস্ত্র।।

চীনে এখন রোবট উৎপাদনের বিপ্লব চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত এই রোবট বাহিনী চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে চীনের গোপন অস্ত্র হিসেবে সামনে আসছে । বাণিজ্য নিয়ে যুদ্ধে চীনকে এগিয়ে রাখছে রোবট সেনাবাহিনী। সুত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টার কেইথ ব্র্যাডশার তার রিপোর্টে বলেন, চীনা দক্ষ প্রকৌশলী এবং ইলেকট্রিশিয়ানরা রোবটের মান ঠিক রেখে এই কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট উৎপাদন খরচ অনেক কমিয়ে এনেছে। দ্রুত গতিতে রোবট কারখানাগুলি চীনে স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে। তাই চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচ্চ শুল্কের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, এই ক্ষেত্রে চীন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একজন মানব কর্মী দিনে মাত্র আট ঘন্টা কাজ করতে পারে, কিন্তু একটি মেশিন (রোবট) ২৪ ঘন্টা কাজ করতে পারে। তিনগুণ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে সারা বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত এই রোবটের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এক্ষেত্রে বর্তমানে চীন অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে।

চীনের ইন্টেলিজেন্ট ম্যান-ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হি লিয়াং বলেন, চীন রোবোটিক্সকে সম্পূর্ণ নতুন ব্যবসায়িক খাতে রূপান্তরিত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

গত মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বুদ্ধিমান রোবটগুলিকে “জোরালো ভাবে বিকাশের” জন্য আইনসভায় তার বার্ষিক প্রতিবেদনে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির জন্য ১শ৩৭ বিলিয়ন ডলারের জাতীয় মূলধন তহবিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া চীনের সরকার-নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলি গত চার বছরে শিল্প ঋণগ্রহীতাদের ঋণ প্রদানের পরিমাণ ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে কারখানা নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলিতে সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের জন্য অর্থ প্রদান করা হয়।

এদিকে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় গুলি থেকে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ যান্ত্রিক প্রকৌশল স্নাতক, সেইসাথে ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার এবং অন্যান্য প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ তৈরি করছে। অথচ আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে প্রতি বছর মাত্র ৪৫ হাজার যান্ত্রিক প্রকৌশলী স্নাতক ডিগ্রি লাভ করছে।

দক্ষিণ-পূর্ব চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুয়াংজুর একটি ওয়ার্কশপে ক্যামেরা সহ একটি রোবোটিক হাতের জন্য একটি চাইনিজ কোম্পানিকে ৪০ হাজার ডলার দেয়া হয়। অথচ মাত্র চার বছর আগে এই সিস্টেমটি চীনের বাহির থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার কিনতে হয়েছে।

চীনের নিংবো শহরের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক “জিকরে”র একটি বিশাল কারখানায় চার বছর আগে রোবট ছিল ৫০০টি। বর্তমান ৮২০টি কাজ করছে। আরও বেশ কিছু রোবট সংযুক্ত করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

চীনের কারখানাগুলিতে এখনও অনেক শ্রমিক নতুন করে নিয়োগ দেয়া হয়। অটোমেশন থাকা সত্ত্বেও, গুণমান পরীক্ষা করতে এবং কিছু যন্ত্রাংশ ইনস্টল করতে ম্যানুয়াল দক্ষতা প্রয়োজন হয়। এমন কিছু জিনিস আছে যা ক্যামেরা এবং কম্পিউটার নিজেরাই করতে পারে না। গাড়ি রঙ করার আগে শ্রমিকরা এখনও গ্লাভস পরে যেকোনো ক্ষুদ্র ত্রুটি মসৃণ করে। তবে মান নিয়ন্ত্রণের পরবর্তী কিছু পদক্ষেপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয় ভাবে করা হচ্ছে।

একটি গাড়ির কারখানায় এক ডজন উচ্চ-রেজোলিউশন ক্যামেরা প্রতিটি গাড়ির ছবি তুলছে । কম্পিউটারগুলি সঠিকভাবে একত্রিত গাড়ির একটি বিস্তৃত ডাটাবেসের সাথে ছবিগুলি তুলনা করে এবং কোনও অসঙ্গতি পাওয়া গেলে কারখানার কর্মীদের সতর্ক করে। অথচ কাজটি সম্পন্ন করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। তাই বেশিরভাগ সহকর্মীর কাজ হলো কম্পিউটার মনিটরের সামনে বসে থাকা,”। জানালেন জিকরের কর্মীরা।

জিকর সহ অন্যান্য চীনা অটো-নির্মাতারাও গাড়ি এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলি আরও দক্ষতার সাথে ডিজাইন করার জন্য পুরোদমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি কারখানাগুলিও অটোমেশন ব্যবহার করে, তবে বেশিরভাগ সরঞ্জাম আসে চীন থেকে । গত ২০ বছরে বিশ্বে নির্মিত  বেশিরভাগ গাড়ির কারখানা চীনে ছিল তাই সেখানেই একটি অটোমেশন শিল্প গড়ে উঠেছে তাদের চারপাশে।

চীনা কোম্পানিগুলি জার্মানির উন্নত মানের রোবোটিক্স এনেছে তাই তাদের বেশিরভাগ কার্যক্রম চীনে স্থানান্তরিত করেছিল। এক বছর আগে যখন ভক্সওয়াগেন হেফেইতে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা চালু করে, তখন জার্মানি থেকে মাত্র একটি রোবট এনে সাংহাইতে সেরকম ১হাজার ৭৪টি রোবট তৈরি করে।

রোবোটিক্সের কারখানায় চীনের দ্রুত অগ্রগতি উপর থেকে নীচে পর্যন্ত চালিত হয়েছে। এক দশক আগে শুরু হওয়া বেইজিংয়ের “মেড ইন চায়না ২০২৫” উদ্যোগে ১০টি শিল্পের কথা বলা হয়েছে যেখানে চীন বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক হতে চেয়েছিল। রোবোটিক্স তাদের মধ্যে একটি।

১৯৮৭ সাল থেকে প্রতি বছর জন্মগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা চীনে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। তাছাড়া ১৮ বছর বয়সী দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হচ্ছে। রোবোটিক্সের কারণে শিক্ষিত এই নতুন প্রজন্মকে কারখানার বাইরে ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করেছে সেই দেশের সরকার। #####

 

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

সর্বশেষ